1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. বিনোদন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. সারাদেশ
  8. ক্যাম্পাস
  9. গণমাধ্যম
  10. ভিডিও গ্যালারী
  11. ফটোগ্যালারী
  12. আমাদের পরিবার
ঢাকা , শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ , ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামেবিতে বিশ্বমানের চিকিৎসা পাওয়ার প্রত্যাশা তরুণদের, কর্মসংস্থানের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ২৯-০৮-২০২৬ ০৯:৩৭:৩৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৯-০৮-২০২৬ ০৯:৩৭:৩৭ অপরাহ্ন
রামেবিতে বিশ্বমানের চিকিৎসা পাওয়ার প্রত্যাশা তরুণদের, কর্মসংস্থানের দাবি ছবি: দৈনিক সোনালী রাজশাহী
 
 
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (রামেবি) আন্তর্জানিক মানের চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাবে বলে প্রত্যাশা করেছেন স্থানীয়রা ইয়্যুথ লিডাররা। এ সময় তারা বিভাগীয় শহরটিতে কর্মসংস্থানের দাবি জানান। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে নগরীর বায়া এলাকায় এক সভায় তারা এসব প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেন। 
 
পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এ সভা আয়োজন করে।পরামর্শ সভায় বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার, তরুণ উদ্যোক্তা, পেশাজীবী, স্বেচ্ছাসেবক, যুব সংগঠক এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা নিজেদের দৃষ্টিতে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সুযোগ, সুযোগে প্রবেশের বাধা এবং রাজশাহীতে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা কার্যক্রম সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
 
সভায় স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ব্রাইট লাইফ ভলান্টিয়ার্স-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আমানুল্লাহ আমান বলেন, রাজশাহীতে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এসব সেক্টরে অপার সুযোগ আছে এখানে। রাজশাহী রেশন, আম ও পান বেশ বিখ্যাত। এছাড়া এখানে রামেবিতে বিশেষায়িত হাসপাতাল হবে, এতে বিশ্বমাসের চিকিৎসা পাওয়া যাবে। সরকারের সমালোচনা না করে ইতিবাচক বিষয়গুলো ধারণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ইঙ্গিত দেন তিনি। এছাড়া রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেসরকারি নার্সিং কলেজের বিএসসি কোর্সের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ চালুর দাবি জানান তিনি। 
 
এদিন সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, অনেক তরুণ ডিগ্রি বা প্রশিক্ষণ শেষ করলেও পর্যাপ্ত ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন না এবং কর্মসংস্থানে প্রবেশের স্পষ্ট পথও খুঁজে পান না। শিক্ষার্থীরা অর্থবহ ইন্টার্নশিপ ও খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার কথা বলেন। অন্যদিকে কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অংশগ্রহণকারীরা জানান, দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও রাজশাহীতে সেগুলো কাজে লাগানোর সুযোগ সীমিত। উদাহরণ হিসেবে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীরা ইলেকট্রিক্যাল, কম্পিউটার ও মেকানিক্যাল বিষয়ে প্রশিক্ষণ থাকা সত্ত্বেও ঢাকাসহ অন্যান্য শিল্পাঞ্চলে কাজ খোঁজার পরামর্শ পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
 
রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রদল সভাপতি মোহাম্মদ শাকিল মন্ডল পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের দুর্দশার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘রাজশাহীতে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণ স্কিল নিয়ে বের হওয়ার পরও আমরা সুযোগের অভাবে এগুলো স্থানীয়ভাবে কাজে লাগাতে পারছি না। আমাদের সিনিয়ররা বলেন ঢাকাতে গিয়ে বাস্তবিক ক্ষেত্রে চাকরি করতে, যার ফলে আমাদের নিজেদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে।’
 
দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির সাফল্য কীভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে, সেটিও প্রশ্নের মুখে পড়ে। অংশগ্রহণকারীদের মতে, কতজন প্রশিক্ষণ নিলেন বা কতটি সনদ দেওয়া হলো, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই প্রশিক্ষণ কর্মসংস্থান, আয় বা কার্যকর স্ব-কর্মসংস্থানে রূপান্তরিত হচ্ছে কি না।
 
পরামর্শ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ও তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ফলাফলের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিতে পারি, অসংখ্য দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালাতে পারি; কিন্তু মূল প্রশ্ন হলো এগুলোর ফল কী হচ্ছে। একজন সত্যিই কি দক্ষতা অর্জন করল? সেই অভিজ্ঞতা কি তাকে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানে নিয়ে গেল, নাকি তার জীবনের গতিপথ বদলাতে পারল?”
 
ঢাকায় চাকরি, ইন্টার্নশিপ, পেশাগত নেটওয়ার্ক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগের অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণও আলোচনায় বড় উদ্বেগ হিসেবে উঠে আসে। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, পেশাগত অভিজ্ঞতা বা তুলনামূলক ভালো আয়ের কাজের জন্য রাজশাহীর তরুণদের প্রায়ই অঞ্চল ছেড়ে যেতে হয়।
 
ড. রহমান এ বিষয়টিকে বৃহত্তরভাবে “জ্ঞানের বিকেন্দ্রীকরণ”-এর প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করেন। তিনি বলেন, নীতি ও কর্মসূচি কেবল ঢাকাকেন্দ্রিক চিন্তার ওপর নির্ভর করে তৈরি না হয়ে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত।
 
তবে অংশগ্রহণকারীরা রাজশাহীর উন্নয়নকে শুধু বৃহৎ শিল্পায়নের সঙ্গে সমার্থক হিসেবে দেখেননি। কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, উচ্চমূল্যের ফসল, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, রেশম ও হস্তশিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটন, সৃজনশীল শিল্প, স্থাপত্য এবং নগর পরিকল্পনাকে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
 
ড. রহমান বলেন, “রাজশাহীকে সিঙ্গাপুর, লন্ডন বা অন্য কোথাও হতে হবে না। রাজশাহীকে আরও উন্নত রাজশাহী হতে হবে।” তিনি জোর দেন যে আঞ্চলিক উন্নয়নকে স্থানীয় শক্তি ও সম্ভাবনার ওপর দাঁড়াতে হবে। আধুনিক কৃষি ও সংশ্লিষ্ট মূল্যশৃঙ্খল, সৃজনশীল অর্থনীতি এবং ঐতিহ্যভিত্তিক কার্যক্রমকে তিনি ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেন।
 
অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় উদ্যোক্তা সাফল্যের বাস্তব উদাহরণও তুলে ধরেন। একজন উদ্যোক্তা দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ফিরে বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রায় ৪০ বিঘা জমি দিয়ে কৃষি উদ্যোগ শুরু করে তা ১০০ বিঘারও বেশি এলাকায় সম্প্রসারণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তিনি ফলচাষে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করেছেন। অন্যরা খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা ও পর্যটনে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রস্তাব করেন।
 
অর্থায়নে প্রবেশাধিকারও বড় বাধা হিসেবে উঠে আসে। তরুণ উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীরা বলেন, ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে প্রায়ই এমন জামানত বা আর্থিক ইতিহাস চাওয়া হয়, যা নতুন উদ্যোক্তাদের থাকে না। একই সঙ্গে বিদ্যমান ক্ষুদ্রঋণ পণ্য অনেক ক্ষেত্রে বড় বা বিশেষায়িত ব্যবসার প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কৃষিসহ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধরন অনুযায়ী মৌসুমি ঋণসহ উপযোগী অর্থায়ন পণ্য তৈরির দাবি জানান অংশগ্রহণকারীরা।
 
সুযোগে ন্যায্য প্রবেশাধিকার নিয়েও আলোচনা হয়। নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব, তদবির ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারীরা। নারীরা নিরাপত্তা, চলাচল ও সামাজিক প্রত্যাশাজনিত সীমাবদ্ধতার কথা বলেন।
 
আদিবাসী ছাত্র পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিকা মারান্ডি তাদের ঐতিহ্যগত শিল্প চুরি ও সুযোগের অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব একটা ডিজাইন আছে। এই আল্পনাগুলো অন্য মানুষ কপি করে প্রচার ও ডিজাইন করছে, কিন্তু এটা আমাদের ডিজাইন হওয়া সত্ত্বেও আমরা কিছু করতে পারছি না কারণ আমাদের পিছিয়ে রাখা হয়েছে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আমাদের কোনো সুযোগ দেওয়া হয় না।’
 
শারীরিক প্রতিবন্ধী অংশগ্রহণকারী, ফ্রিল্যান্সার ও মাঠ সাংবাদিক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান নিয়োগদাতাদের বৈষম্যমূলক আচরণ নিয়ে বলেন: ‘আসলে প্রতিবন্ধী হলেই যে তার দ্বারা কোনো কিছু সম্ভব না, এটা ভাবা যাবে না। আমার দরকার আপনার প্রতিষ্ঠানে কাজ, সে কাজটা যদি আপনি আমার থেকে করিয়ে নিতে পারেন তবে ওকে। কিন্তু তাকে দেখেই প্রথমে জিরো করে দেওয়া হয়। আমি বলব এরকম যেন না হয়। আমাদের শুধু সহানুভূতি ও সুযোগ প্রয়োজন।’
 
ড. রহমান আলোচনার সারসংক্ষেপে চারটি বিষয়কে তরুণদের অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেন: ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা, সামাজিক মানসিকতা, প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যবস্থাগত বাধা, এবং মানুষ, প্রতিষ্ঠান, তথ্য ও বাজারের সঙ্গে সংযোগ।
 
পরামর্শ সভাটি The Asia Foundation-এর সহায়তায় পরিচালিত পিপিআরসির গবেষণা Youth Economic Engagement in Post-Uprising Bangladesh: Opportunities, Entry Points and Institutional Barriers-এর অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Daily Sonali Rajshahi

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ